AI-কে বললেন, "ডায়াবেটিস নিয়ে একটি ব্লগ লিখে দাও।" এক মিনিটে হাজার শব্দের লেখা হাজির। পড়ে দেখলেন, ভুল কিছু নেই, কিন্তু নতুনও কিছু নেই। একই কথা ইন্টারনেটে শত জায়গায় আছে। এমন লেখা পাঠক দুই লাইন পড়ে বন্ধ করে দেন।
ভালো ব্লগ লেখায় AI কাজে লাগে, তবে পুরো লেখা তার হাতে ছেড়ে দিলে নয়। লেখার কাজকে কয়েকটি ধাপে ভাগ করুন। কিছু ধাপে AI দ্রুত সাহায্য করে, আর কিছু ধাপ আপনাকেই করতে হবে। কোনটি কার কাজ, সেটি বোঝাই আসল দক্ষতা।
উদাহরণ: একটি নার্সারির ব্লগ
ধরুন, গাজীপুরে "সবুজ আঙিনা" নামে একটি কাল্পনিক নার্সারি আছে। তারা গাছের চারা বিক্রি করে এবং ওয়েবসাইটে একটি ব্লগ চালাতে চায়, যাতে ছাদবাগান নিয়ে আগ্রহী মানুষ তাদের খুঁজে পান। মালিক গাছ খুব ভালো বোঝেন, কিন্তু লেখার অভ্যাস নেই।
প্রথম লেখার বিষয়: ছাদে টবে টমেটো চাষ।
ধাপ ১: পাঠকের প্রশ্ন দিয়ে শুরু করুন
লেখা শুরুর আগে ঠিক করুন, কে পড়বেন এবং তিনি কী জানতে চান। বিষয় নয়, প্রশ্ন দিয়ে ভাবুন। "টমেটো চাষ" একটি বিষয়। "ছাদে টবে টমেটো লাগিয়েছি, ফুল আসে কিন্তু ফল ধরে না কেন?" একটি প্রশ্ন। দ্বিতীয়টি নিয়ে লেখা অনেক বেশি কাজের।
AI-কে দিয়ে সম্ভাব্য প্রশ্নের তালিকা বানান:
যাঁরা প্রথমবার ছাদে টবে টমেটো চাষ করতে চান, তাঁদের মনে কী কী প্রশ্ন আসতে পারে? পনেরোটি প্রশ্ন লেখো, একদম শুরু থেকে ফল তোলা পর্যন্ত ক্রম অনুযায়ী।
এই তালিকা দেখে আপনি নিজের অভিজ্ঞতা মেলান। ক্রেতারা দোকানে এসে আসলে কোন প্রশ্নগুলো করেন? যে প্রশ্নগুলো বারবার শোনেন, সেগুলোই আপনার লেখার মূল।
ধাপ ২: নিজের জ্ঞান আগে লিখে ফেলুন
এই ধাপটি অনেকে বাদ দেন, অথচ এটিই আপনার লেখাকে আলাদা করে। AI-কে লিখতে বলার আগে নিজে যা জানেন, তা এলোমেলোভাবে হলেও লিখে ফেলুন। বাক্য ঠিক করার দরকার নেই।
নার্সারির মালিক লিখতে পারেন:
- আমাদের এলাকার আবহাওয়ায় কোন সময়ে চারা লাগালে ভালো হয়
- কোন মাপের টবে ভালো ফল পেয়েছি
- নতুনরা সবচেয়ে বেশি কোন ভুল করেন (যেমন বেশি পানি দেওয়া)
- একজন ক্রেতার গাছে ফল না ধরার কারণ কী বেরিয়েছিল
এই তথ্য AI-এর কাছে নেই। এগুলো আপনার অভিজ্ঞতা, আর পাঠক ঠিক এটিই খোঁজেন।
ধাপ ৩: রূপরেখা বানান
এবার AI-কে আপনার নোট দিয়ে রূপরেখা চান:
নিচে আমার নোট দিলাম। এগুলো ব্যবহার করে "ছাদে টবে টমেটো চাষ: নতুনদের জন্য ধাপে ধাপে" শিরোনামের একটি ব্লগের রূপরেখা বানাও। পাঠক: শহরের মানুষ, যাঁরা প্রথমবার চেষ্টা করছেন। ছয় থেকে সাতটি অংশ, প্রতিটির জন্য একটি শিরোনাম এবং সেখানে কী থাকবে তা দুই লাইনে। আমার নোটের কোন তথ্য কোন অংশে যাবে তা উল্লেখ করো। যেখানে আমার নোটে তথ্য নেই, সেখানে লেখো "তথ্য দরকার"।
"তথ্য দরকার" লেখানোর সুবিধা হলো, আপনি দেখতে পাবেন কোথায় আপনার জানা কম। সেখানে AI-কে বানিয়ে লিখতে না দিয়ে নিজে জেনে নিন বা অংশটি বাদ দিন।
রূপরেখা পড়ে ক্রম ঠিক করুন। পাঠক যে ক্রমে কাজ করবেন, লেখাও সেই ক্রমে হওয়া উচিত।
ধাপ ৪: অংশ ধরে খসড়া লিখুন
পুরো লেখা একবারে না চেয়ে একটি একটি অংশ ধরে লেখান। এতে প্রতিটি অংশে মনোযোগ দেওয়া যায়।
রূপরেখার দ্বিতীয় অংশ "টব ও মাটি তৈরি" লেখো। আমার নোটের তথ্য ব্যবহার করো। ১৫০ শব্দের মধ্যে, সহজ বাংলায়, ছোট বাক্যে। পাঠককে "আপনি" বলে সম্বোধন করো। আমার নোটে নেই এমন কোনো মাপ বা পরিমাণ যোগ করবে না।
শেষ নির্দেশটি দরকারি। চাষের লেখায় AI সহজেই একটি পরিমাণ লিখে দেয়, যেমন কতটা সার দিতে হবে। সেই সংখ্যা ভুল হলে পাঠকের গাছ মরতে পারে।
ধাপ ৫: তথ্য যাচাই করুন
খসড়া হয়ে গেলে প্রতিটি তথ্য আলাদা করে দেখুন। AI আত্মবিশ্বাসের সাথে ভুল কথাও লেখে। জিজ্ঞেস করুন:
এই লেখায় যেসব তথ্যগত দাবি আছে, সেগুলোর একটি তালিকা করো। প্রতিটির পাশে লেখো সেটি আমার নোট থেকে এসেছে, নাকি তুমি যোগ করেছ।
AI যা যোগ করেছে, সেগুলো নিজের অভিজ্ঞতা বা নির্ভরযোগ্য উৎসের সাথে মিলিয়ে নিন। মিলাতে না পারলে বাদ দিন। স্বাস্থ্য, টাকা-পয়সা বা আইনের মতো বিষয়ে এই ধাপ আরও বেশি জরুরি।
আর কখনো এমন পরিসংখ্যান বা গবেষণার কথা লিখবেন না, যার উৎস আপনি নিজে দেখেননি। AI প্রায়ই বাস্তবে নেই এমন উৎসের নাম লিখে দেয়।
ধাপ ৬: নিজের কথা যোগ করুন
এখন লেখাটিকে আপনার লেখা বানানোর পালা।
- শুরুটা নিজে লিখুন। দোকানের একটি ছোট ঘটনা দিয়ে শুরু করলে পাঠক আটকে যান।
- নিজের মতামত দিন। "আমরা দেখেছি..." দিয়ে শুরু হওয়া একটি লাইন দশটি সাধারণ লাইনের চেয়ে বেশি কাজের।
- নিজের তোলা ছবি দিন।
- যে বাক্য নিজে বলতেন না, বদলান।
ধাপ ৭: শিরোনাম ও শেষ দেখা
শিরোনাম ঠিক করুন সবার শেষে, যখন জানেন লেখায় আসলে কী আছে।
এই লেখার জন্য দশটি শিরোনাম দাও। পরিষ্কার ও নির্দিষ্ট, কোনো চটকদার বা বাড়িয়ে বলা নয়। পাঠক যেন শিরোনাম পড়েই বোঝেন ভেতরে কী পাবেন।
একটি বেছে নিন, যা লেখার সাথে হুবহু মেলে। শিরোনামে যা বলা আছে, লেখায় তা না থাকলে পাঠক ঠকেছেন মনে করেন।
প্রকাশের আগে পুরো লেখা একবার জোরে পড়ুন। যেখানে হোঁচট খাচ্ছেন, সেখানে বাক্য ছোট করুন।
কোন কাজ কার
সংক্ষেপে মনে রাখুন:
- AI ভালো পারে: প্রশ্নের তালিকা, রূপরেখা, প্রথম খসড়া, শিরোনামের বিকল্প, বানান ও ভাষা ঠিক করা
- আপনাকে করতে হবে: কী নিয়ে লিখবেন ঠিক করা, নিজের অভিজ্ঞতা দেওয়া, তথ্য যাচাই, নিজের মতামত, প্রকাশের সিদ্ধান্ত
অন্যের লেখা থেকে বড় অংশ নিয়ে AI-কে দিয়ে শব্দ বদলে নিজের বলে চালানো অনুচিত। তাতে পাঠকের কোনো উপকার হয় না, আর সুনামও টেকে না।
আজই চেষ্টা করুন
- নিজের কাজের ক্ষেত্রে মানুষ বারবার যে প্রশ্নটি করেন, সেটি বেছে নিন।
- সেই প্রশ্ন নিয়ে নিজে যা জানেন, দশ মিনিটে লিখে ফেলুন।
- নোটগুলো AI-কে দিয়ে রূপরেখা বানিয়ে একটি অংশের খসড়া লেখান।
একটি অংশ লিখে দেখলেই বুঝবেন, আপনার নোট থাকলে AI-এর খসড়া কতটা আলাদা হয়। সেই পার্থক্যটাই আপনার ব্লগের শক্তি।
