অনেকে একটি সিভি বানিয়ে সেটিই সব চাকরিতে পাঠান। কিন্তু প্রতিটি চাকরির চাওয়া আলাদা। যিনি সিভি বাছাই করেন, তিনি খুব অল্প সময়ে দেখেন এই প্রার্থীর অভিজ্ঞতা বিজ্ঞাপনের চাওয়ার সাথে মেলে কি না। না মিললে সিভি পাশে সরিয়ে রাখেন, যদিও আপনি হয়তো কাজটির জন্য যোগ্য ছিলেন।
সমাধান হলো প্রতিটি আবেদনের জন্য সিভি একটু বদলে নেওয়া। নতুন কিছু বানিয়ে নয়, নিজের সত্যিকারের অভিজ্ঞতার মধ্যে যেগুলো ওই চাকরির সাথে মেলে, সেগুলো সামনে এনে। এই মেলানোর কাজে AI অনেক সময় বাঁচায়।
উদাহরণ: একজন সদ্য পাস করা প্রার্থী
ধরুন, সুমাইয়া নামে একজন কাল্পনিক প্রার্থী খুলনা থেকে ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতক শেষ করেছেন। পড়ার সময় তিনি একটি ক্লাবের অনুষ্ঠান আয়োজন করেছেন এবং এক আত্মীয়ের অনলাইন দোকানের পেজ কিছুদিন চালিয়েছেন। এখন একটি প্রতিষ্ঠানে "জুনিয়র মার্কেটিং এক্সিকিউটিভ" পদে আবেদন করবেন।
ধাপ ১: আগে নিজের সব অভিজ্ঞতা এক জায়গায় লিখুন
প্রথমে একটি "মূল তালিকা" বানান। এটি কাউকে পাঠানোর জন্য নয়, নিজের জন্য। এখানে থাকবে আপনার সব পড়াশোনা, কাজ, প্রজেক্ট, স্বেচ্ছাসেবা, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা। সাজানো বা ছোট করার দরকার নেই, যা মনে আসে লিখে ফেলুন।
প্রতিটি অভিজ্ঞতার পাশে লিখুন আপনি নিজে কী করেছিলেন এবং তার ফল কী হয়েছিল। "ক্লাবের সদস্য ছিলাম" লেখার চেয়ে "ক্লাবের বার্ষিক অনুষ্ঠানের প্রচারের দায়িত্বে ছিলাম, পোস্টার ও ফেসবুক ইভেন্ট তৈরি করেছি" অনেক বেশি কাজের।
এই তালিকাই পরের সব ধাপের কাঁচামাল। AI এখান থেকে বেছে নেবে, নতুন কিছু বানাবে না।
ধাপ ২: বিজ্ঞাপন থেকে চাওয়াগুলো বের করুন
এবার চাকরির বিজ্ঞাপনটি AI-কে দিন:
নিচের চাকরির বিজ্ঞাপনটি পড়ো। এখান থেকে দুটি তালিকা বানাও: ১) যে দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা অবশ্যই চাওয়া হয়েছে, ২) যেগুলো থাকলে ভালো বলা হয়েছে। প্রতিটির পাশে বিজ্ঞাপনে ব্যবহৃত মূল শব্দটি লেখো। [এখানে বিজ্ঞাপন পেস্ট করুন]
বিজ্ঞাপনের শব্দগুলো গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিষ্ঠান যদি লেখে "সোশ্যাল মিডিয়া কনটেন্ট", আর আপনার সিভিতে একই কাজের জন্য লেখা থাকে "পেজ চালানো", তাহলে বাছাইকারী মিলটা সহজে ধরতে পারেন না। একই কাজ, কিন্তু তাঁদের ভাষায় লিখলে চোখে পড়ে।
ধাপ ৩: মিল আর ফাঁক খুঁজুন
এখন দুটি জিনিস একসাথে দিন: আপনার মূল তালিকা এবং বিজ্ঞাপনের চাওয়া।
নিচে আমার অভিজ্ঞতার তালিকা এবং চাকরির চাওয়ার তালিকা দিলাম। একটি টেবিলের মতো সাজাও: প্রতিটি চাওয়ার পাশে আমার কোন অভিজ্ঞতা মেলে তা লেখো। যেখানে কিছুই মেলে না, সেখানে লেখো "মিল নেই"। আমার তালিকায় নেই এমন কিছু ধরে নেবে না।
এই ধাপে দুটি জিনিস জানা যায়। প্রথমত, কোন অভিজ্ঞতাগুলো সিভিতে সবার উপরে থাকা উচিত। দ্বিতীয়ত, কোথায় আপনার ঘাটতি আছে।
ঘাটতি দেখে ঘাবড়াবেন না। সব চাওয়া মেলে এমন প্রার্থী কমই থাকেন। তবে ঘাটতি ঢাকতে মিথ্যা লিখবেন না। ইন্টারভিউয়ে প্রথম প্রশ্নেই তা ধরা পড়ে।
ধাপ ৪: সিভির অংশগুলো নতুন করে লেখান
এবার মিলে যাওয়া অভিজ্ঞতাগুলো ভালো করে লিখিয়ে নিন:
আমার মিলে যাওয়া অভিজ্ঞতাগুলো সিভির জন্য বুলেট আকারে লেখো। প্রতিটি বুলেট একটি কাজের ক্রিয়া দিয়ে শুরু হবে এবং এক লাইনের মধ্যে থাকবে। বিজ্ঞাপনের মূল শব্দগুলো স্বাভাবিকভাবে ব্যবহার করো, যেখানে সত্যিই মেলে। আমি যে তথ্য দিইনি, যেমন কোনো সংখ্যা বা ফলাফল, তা যোগ করবে না।
শেষ লাইনটি বিশেষ দরকারি। AI সিভিকে শক্তিশালী দেখাতে নিজে থেকে সংখ্যা বসিয়ে দিতে পারে, যেমন বিক্রি কতটা বেড়েছে। আপনি যদি সেই সংখ্যা না জানেন বা প্রমাণ করতে না পারেন, তবে তা সিভিতে থাকা বিপজ্জনক।
উত্তর পাওয়ার পর প্রতিটি বুলেট পড়ে নিজেকে জিজ্ঞেস করুন: ইন্টারভিউয়ে এটি নিয়ে প্রশ্ন করলে আমি কি দুই মিনিট কথা বলতে পারব? না পারলে বুলেটটি বদলান।
ধাপ ৫: কভার লেটার, ছোট ও নির্দিষ্ট
কভার লেটার সিভির পুনরাবৃত্তি নয়। এর কাজ তিনটি প্রশ্নের উত্তর দেওয়া: আপনি কেন এই প্রতিষ্ঠানে আগ্রহী, কোন দুটি অভিজ্ঞতা সবচেয়ে বেশি মেলে, এবং আপনি কী করতে চান।
উপরের তথ্য ব্যবহার করে একটি কভার লেটারের খসড়া লেখো। তিন অনুচ্ছেদ, মোট ১৮০ শব্দের মধ্যে। প্রথম অনুচ্ছেদে আমি কেন এই পদে আগ্রহী, এর জন্য একটি ফাঁকা জায়গা রাখো, আমি নিজে লিখব। দ্বিতীয় অনুচ্ছেদে আমার সবচেয়ে মিলে যাওয়া দুটি অভিজ্ঞতা। তৃতীয় অনুচ্ছেদে সাক্ষাতের আগ্রহ, ভদ্রভাবে। বাড়াবাড়ি প্রশংসা বা মুখস্থ বাক্য ব্যবহার করবে না।
প্রথম অনুচ্ছেদটি নিজে লেখার কারণ হলো, কেন আপনি এই প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে চান তা AI জানে না। প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট বা পেজ দেখে একটি নির্দিষ্ট কারণ লিখুন। এই দুই লাইনই চিঠিটিকে আলাদা করে।
ঘাটতি থাকলে কী করবেন
ধাপ ৩-এ যেসব চাওয়ার পাশে "মিল নেই" এসেছে, সেগুলো ফেলে রাখবেন না। AI-কে জিজ্ঞেস করুন, "এই দক্ষতাটি অল্প সময়ে শেখা শুরু করার জন্য আমি কী করতে পারি?" সে একটি ছোট শেখার পরিকল্পনা সাজিয়ে দেবে। ইন্টারভিউয়ে ঘাটতির প্রশ্ন এলে সৎভাবে বলুন যে বিষয়টি আপনি এখনো করেননি, তবে শেখা শুরু করেছেন এবং কীভাবে করছেন। যে প্রার্থী নিজের ঘাটতি জানেন এবং তা নিয়ে কাজ করছেন, তাঁকে বাছাইকারীরা গুরুত্ব দিয়েই দেখেন।
পাঠানোর আগে শেষ যাচাই
- সব তথ্য সত্যি তো? তারিখ, পদের নাম, প্রতিষ্ঠানের নাম মিলিয়ে নিন।
- প্রতিষ্ঠানের নাম ও পদের নাম ঠিক আছে তো? আগের আবেদনের নাম থেকে যাওয়া খুব সাধারণ ভুল।
- ফোন নম্বর ও ইমেইল ঠিক আছে তো?
- দৈর্ঘ্য: নতুন প্রার্থীর সিভি সাধারণত এক পাতাতেই ভালো দেখায়।
আরেকটি সাবধানতা। সিভিতে আপনার ঠিকানা, ফোন নম্বর, জন্মতারিখের মতো ব্যক্তিগত তথ্য থাকে। AI-তে পুরো সিভি পেস্ট করার আগে এগুলো মুছে দিন। অভিজ্ঞতা সাজাতে এসব তথ্যের দরকার হয় না।
আজই চেষ্টা করুন
- নিজের সব অভিজ্ঞতার একটি মূল তালিকা বানান। এতে আধা ঘণ্টা লাগবে, কিন্তু এটি বারবার কাজে আসবে।
- পছন্দের একটি চাকরির বিজ্ঞাপন নিয়ে মিল ও ফাঁকের টেবিলটি তৈরি করুন।
- সবচেয়ে মিলে যাওয়া তিনটি অভিজ্ঞতা নতুন করে লিখিয়ে সিভির উপরের দিকে বসান।
মূল তালিকাটি একবার তৈরি হয়ে গেলে প্রতিটি নতুন আবেদনের জন্য সিভি সাজাতে খুব বেশি সময় লাগবে না। আর যে সিভি বিজ্ঞাপনের সাথে মিলিয়ে লেখা, সেটি পড়ে বাছাইকারী বোঝেন, এই প্রার্থী আবেদনটি মন দিয়ে করেছেন।
